Friday, May 30, 2025

সফল ব্লগার হওয়ার ৬টি গোপন টিপস: যেভাবে ধৈর্য ধরে ব্লগিং চালিয়ে যাবেন

ব্লগিং অতি পরিচিত একটি শব্দ। বর্তমানে এই ব্লগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়েব ট্রাইব্যুনালের মতে সারা বিশ্বে ১.৯ বিলিয়ন ওয়েব সাইট এর মধ্যে ৬০০ মিলিয়নের অধিক ব্লগ রয়েছে

ধৈর্য ধরে ব্লগিং করা, বাংলা ব্লগারদের জন্য গাইড, সফল ব্লগার হওয়ার উপায়

এই ৬০০ মিলিয়নের ব্লগার পরিবারের মধ্যে অসংখ্য বাংলা ভাষার ব্লগ রয়েছে।প্রতিদিন নতুন নতুন ব্লগাররা যোগ দিচ্ছেন এই সুবিশাল ব্লগার কমিউনিটিতে। ২০২৫ সালে এসে, প্রায় ৮৩% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়মিত ব্লগ পড়েন। এই বিশাল ব্লগ পাঠকরা প্রতিমাসে ২০ বিলিয়ন ব্লগ পোস্ট পড়ে শেষ করেন। অথচ নিয়মিতভাবে বেশিরভাগ নতুন ব্লগার এমনকি অনেক বড় বড় পুরাতন ব্লগাররাও ব্লগিং ছেড়ে দেন।

" ৮০% নতুন ব্লগাররা ব্লগিং শুরুর ১৮ মাসের মধ্যেই আশা হারিয়ে ফেলেন ও ব্লগিং ছেড়ে দেন। "

এর অনেক জটিল ও যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। ব্লগারদের ব্লগিং এ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার ৬টি সাধারণ কারণ খুঁজে পেয়েছি । এই আর্টিকেলে মূলত সেই ৬টি কারণ উল্লেখ পূর্বক কিভাবে ব্লগিং এ ধৈর্য্য ধরে রাখতে হবে তা আলোচনা করা হয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে ব্লগিং শুরু করা।

পরিকল্পনা ছাড়া কোন কিছুই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় না। হয়ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা ছাড়া অনেক কিছুই শুরু করা যায় কিন্তু তা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা দায়। এমন অনেক মহৎ উদ্দেশ্য আছে যেগুলো সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে!

ব্লগিং তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অনেক সহজ কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুরুতেই অনেকে শেষ করে দিয়েছেন। তাই ব্লগিং শুরু করার পূর্বে আপনার উচিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যাওয়া।

আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা

স্বপ্ন সবাই দেখে। স্বপ্ন যারা দেখতে পারেন না তাদের জন্য ব্লগিং শুরু করা ও পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াটা আর যাই হোক বুদ্ধিমান কাজ নয় । তবে হ্যাঁ, আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখলেই আবার হবে না। বেশিরভাগ ( প্রায় ৯০-৯৫ % ) নতুন ব্লগারা এই ভুলটা করে বসেন।

তারা ভেবে বসেন পোস্ট করলেই বুঝি হাজার হাজার ভিজিটর আসবে, পোস্ট পড়বে আর অসংখ্য কমেন্ট আসতে থাকবে। যখন তারা ব্লগ তৈরি করার পর এই রকম কিছু দেখতে পান না তখন সকাল স্বপ্ন দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

অন্য ব্লগারদের সাথে তুলনা করা

নিজেকে অন্যের মতো করে তৈরি করতে থাকলে বা অন্ধ অনুকরণ করতে থাকলে একসময় নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। তেমনি নিজেকে, নিজের সৃষ্টিকর্ম ছেড়ে অন্য ব্লগারদের সাথে নিজেকে তুলনা করে অন্যের মতো করে ব্লগ পোস্ট লিখলে পাঠক তাদের রুচি কিছুটা হলেও হারিয়ে ফেলেন এবং ঐ নির্দিষ্ট ব্লগের কন্টেন্ট পড়া কমিয়ে দেন। এভাবে ব্লগে পাঠকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলে লেখক তার ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেন না।তাই নিজস্ব ইউনিক কন্টেন্ট তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করাই উত্তম।

অন্যকে অনুকরণ করে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবেন না।

নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেওয়া

অনেকের ব্লগিং ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ লেখার মতো ভালো কিছু খুঁজে বের করতে না পারা। আর খুঁজে না পাওয়ার জন্য দায়ী নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেওয়া। আর নতুন কিছু না শিখতে পারলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করতে না পারলে পাঠকদের জন্য নতুন কিছু তুলতে ধরতে পরা যাবে না। যখন , পাঠকদের চাওয়া নতুন কিছু, ব্যতিক্রম কিছু।

শুরুতেই আয় রোজগারের চিন্তা-ভাবনা

ব্লগারদের সবচেয়ে বড় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার কারণ হলো শুরুতেই আয় রোজগারের চিন্তা-ভাবনা মাথায় নিয়ে আসা। বেশিরভাগ নতুন ব্লগাররা ভাবতে থাকেন ব্লগ তৈরির সাথে সাথে অনেক সহজেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম শুরু হবে। ভিজিটর আসলেই $১০০০ ডলার মাসে চলে আসবে!! এই চিন্তা ভাবনা থাকার কারণে যখন তাঁরা কয়েক মাস ব্লগিং করার পরও আশানুরূপ সাড়া বা ফলাফল ( আয় রোজগার ) পায় না তখন আশা ছেড়ে দেন।

কাজের ( ব্লগিং) প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

যে যাই কাজ করি না কেন, কাজের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ না থাকলে কাজে মনোযোগ আসবে না। আর মনোযোগ , আগ্রহ ও ভালোবাসা না থাকলে কাজকে তখন আর " কাজ মনে হবে না, মনে হবে বোঝা!"

কাজের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে, কাজকে কাজ মনে হবে না, কাজকে বোঝা মনে হবে।

ব্লগিং এমন একটি পেশা যেখানে কাজ, আবেগ , ভালোবাসা সবকিছু একসাথে "কাজ" করে, অনুপ্রেরণা যোগায়! তাই, ব্লগ পোস্ট কার ভালো লাগে আর কার লাগে না সেদিকে মনোযোগ বেশি না দিয়ে, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কোয়ালিটি কনটেন্ট রাইটিং করুন। দেখবেন একদিন পাঠকদের একাংশ কমেন্ট করে বলছে, "আপনার পোস্ট পড়ে তারা অনেক উপকৃত হচ্ছে" , অনেকেই বলবেন," আপনার পোস্ট, অমুক ব্লগের তমুক ব্লগারের মতো প্রফেশনাল লাগছে" আরো কত্তো কিছু!

ব্লগিংয়ে ধৈর্য্য ধরে রাখার উপায়

ব্লগিংয়ে ধৈর্য্য ধরে রাখাটা জরুরি। ধৈর্য্য ধরে রাখার জন্য নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন ।

  • সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে ব্লগিং শুরু করা : যেমন :- সপ্তাহে কয়টি পোস্ট করবেন, কি কি টপিকসের উপর লিখবেন, কখন কোন ধরনের স্কিল ডেভেলপ করবেন, দৈনিক কতটুকু সময় দিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
  • দক্ষতা অর্জন ব্যতিরেকে আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা বাদ দিতে হবে :- আগে কিছু দক্ষতা অর্জন করুন, সময় নিয়ে লাগাতার কাজ করতে থাকুন তারপর বড় স্বপ্ন দেখুন। কাজ কম করে, বেশি স্বপ্ন দেখা বোকামি।
  • নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে ডিপ্রেসড না হওয়া :- নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা পরিহার করুন।
  • প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা:- নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে প্রতিদিন নতুন নতুন বই , ব্লগ ইত্যাদি পড়ুন। যাতে করে নতুন কিছু শিখতে ও পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
  • লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার চিন্তা বাদ দিন :- ব্লগ থেকে ইনকাম করা যায় তবে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার চিন্তা ভাবনা থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কোয়ালিটি পূর্ণ লেখা পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করুন।
  • ভালোবাসা, আগ্রহ নিয়ে কাজ করা : ব্লগিং করতে নিজের ব্লগের প্রতি যথেষ্ট ভালোবাসা নিয়ে কাজ করবেন।
  • অতি আবেগ পরিহার করুন : ব্লগিং একটি আবেগের নাম, অনেক আবেগ, স্মৃতি বিজড়িত থাকে প্রতিটি ব্লগের সাথে কিন্তু অতিরিক্ত আবেগ থাকলে সেটা পরিহার করা উচিত।
  • অন্যের কথায় কান না দেওয়া :- কে কি বললো সেদিকে খুব খেয়াল না করলে ভালো ফল পাবেন। কারন ভালো লোকদের মাঝে কিছু ভাইরাস থাকে।

উপসংহার

ব্লগিং করতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হচ্ছে ধৈর্য্য। ধৈর্য্য না থাকলে ব্লগিং করে টিকে থাকা অনেক অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের । সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে এবং অন্যকে কিছু শেখানোর উদ্দেশ্য ব্লগিং করতে আমি আপনাদের পরামর্শ দেব।
Previous Post
First

post written by:

আমার নাম মোঃ রহিম আলী। আমি একজন সার্টিফায়েড SEO এক্সপার্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটার। ২০১৯ সাল থেকে ব্লগিং পাশাপাশি কনটেন্ট রাইটিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) নিয়ে নিয়মিত কাজ করছি। বর্তমানে আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে পাঠকদের ডিজিটাল মার্কেটিং , এসইও, ব্লগিংয়ের টিপস সহ টুকিটাকি টিপস-ট্রিকস শেখানোর চেষ্টা করব, ইনশা-আল্লাহ্‌।

0 comments: