Monday, June 2, 2025

এসইও কি, কত প্রকার, কিভাবে কাজ করে ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজস্ব কন্টেন্ট সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসইও একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক। এসইও করার মাধ্যমে আমাদের কনটেন্টকে কাঙ্খিত পাঠক বা ক্রেতার নিকটে পৌঁছানো যায়। কিন্তু এ সময়ে এসেও এখনো অনেকেই ঠিক ভাবে জানে না এসইও কি, কেন করা দরকার এবং SEO কিভাবে কাজ করে।

ফেসবুক বা গুগল এডস এর মাধ্যমে আপনি অল্প সময়েই আপনার সাইটে ট্রাফিক আনতে পারবেন। কিন্তু ফেসবুক বা গুগল এডস এর সীমাবদ্ধতা হলো আপনার কাছে যতদিন পর্যন্ত টাকা আছে ততদিনেই ভিজিটর পাবেন। টাকা শেষ ভিজিটরদের আশাও শেষ। কিন্তু SEO এমন একটি টেকনিক যার মাধ্যমে বিনামূল্যে মাসের পর মাস, বছরে পর বছর ভিজিটর পেতে থাকবেন।

এখন নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন আসছে এসইও কি, এসইও কত প্রকার, কেন SEO করা হয়, SEO কত ধরনের, অন পেজ এসইও কি, অফ পেজ SEO কি, টেকনিক্যাল SEO কি, কিভাবে শিখব? ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকে আমি আপনাদের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন ও এসইও এর বেসিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

এসইও কি

এসইও কি ? ( What is SEO? )

SEO এর পূর্ণরূপ হলো Search Engine Optimization । তো চলুন এসইও কি বিষয়টা একটু আলাদাভাবে বোঝার চেষ্টা করি। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে খুব কম মানুষই রয়েছেন যাদের ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজ অথবা ইউটিউব চ্যানেল নেই। আবার এখন তো ওয়েবসাইট ছাড়া সফল ব্যবসার কথা চিন্তা করাও যায় না। তবে এখন এখনো সবার ওয়েবসাইট না থাকলেও হয়তো খুব শীঘ্রই দেখব প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে একটা ওয়েবসাইট থাকবেই।

এখন মনে করেন, আপনার একটি ই-কমার্স সাইট রয়েছে অথবা একটা ওয়েবসাইট রয়েছে বা ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। আপনার ওয়েবসাইট রয়েছে এটা দেশের আরেক প্রান্তে থাকা অন্য একজন ব্যক্তি কিভাবে জানবে বা বিদেশে একজন রয়েছে সে কিভাবে জানবে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন? কিংবা আপনার একটি ই-কমার্স বিজনেসের প্রোডাক্ট অন্য আরেকজনের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে?

আপনার ওয়েবসাইট বা চ্যানেল তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার লেখা বা কনটেন্ট কে মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া অথবা ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে সেলস বৃদ্ধি করা।

এসইও হচ্ছে একটি কৌশল বা পদ্ধতি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স সাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজকে দেশের আরেক প্রান্তে থাকা কিংবা বিদেশে থাকা ব্যক্তির নিকটে পৌঁছানো সম্ভব‌ হয়।

SEO এর কাজ মূলত যেকোনো ধরনের কনটেন্ট কে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে তুলে ধরা যাতে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে আপনার কনটেন্টটি কিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এবং যখন কেউ আপনার লেখা কনটেন্টের বিষয়বলি নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করবে তখন আপনার কনটেন্টটি যেন প্রথমে দেখায়।তাহলে বলতে পারি,

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO হলো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম কানুন অনুসরণ করে কাঙ্খিত ওয়েবসাইটকে বা ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে SERPs (Search Engine Result Pages) এর প্রথমের দিকে নিয়ে আসার টেকনিক।

যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্গানিকভাবে বিনামূল্যে একটি ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করে SERPs এ দৃশ্যমানতা বাড়ানো যায় তাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও বলে।

SERPs হলো আমরা কোন কিছু গুগলে বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে সার্চ রেজাল্ট যে পেজে দেখায় সেটা। সার্চ ইঞ্জিন শব্দটা যেহেতু আমাদের সামনে চলেই আসলো তাই চলুন আগে জেনে নিই সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে।

কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন কাজ করে?

সার্চ ইঞ্জিন মূলত তার অ্যালগরিদম অনুসারে কাজ করে। প্রতিটি অ্যালগরিদমই সাধারণত তিনটি ধাপে কাজ করে।

  • Crawling
  • Indexing
  • Ranking

Crawling

ক্রলিং হলো ওয়েবসাইটকে খোঁজা । সার্চ ইঞ্জিনের Crawler বা বট (যেমনঃ গুগলের Googlebot ) ইন্টারনেটে সব সময় ঘুরে বেড়ায় এবং নতুন আপডেটেড কনটেন্ট খুঁজে।

Indexing

ক্রলিং করে ওয়েবসাইটকে খুঁজে পাওয়ার পরের কাজ হয় ক্রল করা পেজগুলোকে বিশ্লেষণ করা এবং ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইটের পেজগুলোকে বিশ্লেষণ ও ডেটাবেজে সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় ইনডেক্সিং।

Ranking

ক্রল করে ওয়েবসাইট খুঁজে, তার ডেটা বিশ্লেষণ ও ডেটাবেজে সংরক্ষণ করার পরবর্তী কাজ Ranking । ইউজার যখন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে তখন সার্চ ইঞ্জিন তার ইনডেক্স করা ডেটাবেজ থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, বিশ্বাসযোগ্য ও ইউজার ফ্রেন্ডলি কন্টেন্টগুলোকে প্রথমে দেখাবে। প্রায় ২০০ টির উপরে Ranking ফ্যাক্টর রয়েছে যার উপর নির্ভর করে গুগল Rank নির্ধারণ করে।


ধাপ কী হয়
Crawling ওয়েবসাইট স্ক্যান করা
Indexing তথ্য বিশ্লেষণ করে সংরক্ষণ করা
Ranking সবচেয়ে ভালো ও প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখানো

SEO কিভাবে কাজ করে?

এসইও কি এবং এসইও কিভাবে কাজ করে জানলাম। চলুন এইবার SEO কিভাবে কাজ করে সেটাও জেনে নিই -

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আর এটি জটিল ভাবে কাজ করে। ২০০ এর অধিক ফ্যাক্টর নিয়ে এসইও কাজ করে থাকে। কন্টেন্ট ও কিওয়ার্ডই এসইওর প্রাণ। যখন একটি কনটেন্ট উপযুক্ত কিওয়ার্ড দিয়ে লেখা হয় এবং সেই কনটেন্টকে এলগরিদমের নিয়ম অনুযায়ী গুছিয়ে সাজানো হয় ( On Page), লিঙ্ক বিল্ডিং করা হয় (Off-Page) এবং টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে ( Technical SEO ) প্রস্তুত করা হয়।

তারপর উক্ত কিওয়ার্ড দিয়ে যখন কেউ সার্চ করে তখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার কন্টেন্টকে SERPs এর কোথাও না কোথাও দেখাবে। আর আপনার কনটেন্ট অ্যালগরিদম ভালোভাবে মেনে চলে তবে প্রথম পেজে দেখাবে।

SEO Working Method = On page + Link Building + Technical SEO + Others 200+ Factors

এসইও কত প্রকার?

এসইও করার ধরনের উপর ভিত্তি করে এসইও তিন ধরনের-

  1. White Hat SEO
  2. Grey Hat SEO
  3. Black Hat SEO

White Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের সকল ধরনের নির্দেশনা ও নিয়মাবলী মেনে করা হয় তাই-ই হোয়াইট হ্যাট এসইও। সাধারণ অর্থে SEO বলতে হোয়াইট হ্যাট এসইওকেই বোঝানো হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী হলেও সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘসময় Rank ধরে রেখে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারে। এটা আবার ৩ ধরনের -

On-Page এসইও কি

একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্য নিজের ডোমেইনের মধ্যে যে কাজগুলো করা হয় তাকে অন-পেজ এসইও বলে।

Off-Page SEO কি

একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং এর জন্য নিজের ডোমেইনের বাইরে যে কাজগুলো করা হয় সেগুলোকে অফ-পেজ এসইও বলে।

Technical এসইও কি

টেকনিক্যাল এসইও বলতে বোঝায় আপনার ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স অপটিমাইজ করা যাতে সার্চ ইঞ্জিনগুলি সহজে আপনার ওয়েবসাইটকে ক্রল, ইনডেক্স এবং র‍্যাঙ্কিং করতে পারে।

Grey Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের কিছু নির্দেশনা ও নিয়মাবলী মেনে চলে পাশাপাশি দ্রুত রেজাল্ট আনতে অসৎ পথও অবলম্বন করা হয় সেটাই গ্রে হ্যাট এসইও। এ ধরনের এসইও গুগলের কাছে বা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ধরা পড়লে র‍্যাঙ্ক হারানোর ঝুঁকি থেকে যায়।

Black Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে করা হয় সেটাই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। এ ধরনের Seo করলে রাতারাতি ফলাফল পাওয়া যায় কিন্তু অল্প দিনেই র‍্যাঙ্ক হারিয়ে ফেলে এবং Google বা অন্য যে কোন সার্চ ইঞ্জিন ওই ওয়েবসাইটকে তাদের ডেটাবেজ থেকে রিমুভ করে দেয় আর কখনোই ইনডেক্স করে না।

প্ল্যাটফর্ম ও কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী আরো কিছু SEO

Local SEO

লোকাল ব্যবসা বা সার্ভিস অন্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে এসইও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় সেটাই লোকাল এসইও। যেমন: বাইরে থেকে কেউ রাজশাহীতে এলো এসে খাবার খাওয়ার জন্য তার রেস্টুরেন্ট প্রয়োজন। তো সে সার্চ করল Restaurant in Rajshahi অথবা Restaurant near me. তখন যদি আপনার স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এসইও করা হয়ে থাকে তাহলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বা রেস্টুরেন্টিতে লোকটির খেতে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। লোকাল এসইও তে গুরুত্বপূর্ণ হলো -

  • Google My Business সেটআপ
  • লোকাল কিওয়ার্ড ( যেমন: Restaurant in Rajshahi অথবা Restaurant near me)
  • রিভিউ

E-Commerce SEO

অনলাইন ভিত্তিক বা প্রোডাক্ট সেলিং ওয়েবসাইটের জন্য এসইও টেকনিক। ই-কমার্স এসইওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ-

  • প্রোডাক্ট টাইটেল
  • প্রোডাক্ট ইমেজ
  • ডিসক্রিপশন
  • Schema Markup
  • Speed Optimization
  • User Experience

WordPress SEO

ওয়ার্ডপ্রেস কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যে টেকনিক ব্যবহার করে এসইও করা হয় তাকেই ওয়ার্ডপ্রেস এসইও বলে। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন ব্যবহার করে SEO করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্লাগিন যেমন: Yoast SEO, Rank Math ইত্যাদি প্লাগিন ব্যবহার করে খুব সহজেই এসইওর কাজ শেষ করা যায়।

YouTube SEO

ইউটিউবের ভিডিও কনটেন্টকে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসইও করা হয় সেটি ইউটিউব এসইও‌। এক্ষেত্রে ভিডিও টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ট্যাগ, থাম্বনেইল, সাবটাইটেল গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কাজ সহজ করতে নিম্নলিখিত এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়-

  • VidIQ
  • TubeBuddy
  • Keywords Everywhere
  • SEOquake

Shopify SEO

Shopify হলো স্টোর বিল্ডার। Shopify প্ল্যাটফর্মের সাইটের অনলাইনের উপস্থিতি বাড়াতে যেসকল পদ্ধতি অবলম্বন করে এসইও করা হয় সেটি হচ্ছে Shopify SEO।

On-Page SEO vs Off-Page SEO: পার্থক্য

  • On-Page SEO = আপনি যা নিজে আপনার সাইটে করেন
  • Off-Page SEO = আপনি যা বাইরের মাধ্যমে করেন (যেমন: ব্যাকলিংক)

বিষয় On-Page SEO Off-Page SEO
কাজ হয় কোথায়? নিজের ওয়েবসাইটের ভেতরে অন্য সাইট বা প্ল্যাটফর্মে
মূল উদ্দেশ্য কনটেন্ট ও স্ট্রাকচার অপটিমাইজ করা ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও অথরিটি বাড়ানো
উদাহরণ Meta Title, Meta Description, Keywords, Image ALT Text, Internal Linking, Site Speed Backlink, Social Sharing, Guest Posting, Influencer Outreach
নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না
সময় তুলনামূলকভাবে দ্রুত তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ

এসইও কেন করা হয়?

এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা হয় মূলত একটি ওয়েবসাইট বা অনলাইন কন্টেন্টকে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে ভালোভাবে র‍্যাংক করানোর জন্য। সহজভাবে বললে, এসইও করার উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ পোস্ট সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে মানুষের খোঁজার সময় উপরের দিকে আসে এবং বেশি ভিজিটর পায়। নিচে এসইও করার প্রধান কিছু কারণ দেওয়া হলো:

অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে

এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে বিনামূল্যে (অর্গানিক) ভিজিটর পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনের মতো আলাদা করে টাকা খরচ না করেও ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসতে থাকে।

ব্র্যান্ডের ভিজিবিলিটি বা উপস্থিতি বাড়ানো

যখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পাতায় থাকে, তখন আপনার ব্র্যান্ড বা ব্যবসার প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

বিশ্বস্ততা ও অথরিটি তৈরি করা

একটি ভালো এসইও করা ওয়েবসাইটকে সাধারণত গুগল “বিশ্বস্ত” ও “অথরিটেটিভ” বলে ধরে নেয়। এতে করে ইউজাররাও সেই সাইটকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বেশি কাস্টমার পাওয়া ও বিক্রি বাড়ানো

বিশেষ করে ই-কমার্স বা সার্ভিস ভিত্তিক সাইটগুলোর জন্য এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে।

লং-টার্ম রেজাল্ট পাওয়া

একবার ভালোভাবে এসইও করলে এর ফলাফল দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বিজ্ঞাপনের মতো বিষয়গুলোতে টাকা খরচ বন্ধ করলেই ভিজিটর কমে যায় কখনো কখনো আর আসেই না।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা

প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান যদি এসইও করে, আর আপনি না করেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাজারে টিকে থাকার জন্য এসইও অপরিহার্য।

Short-Term Win vs Long Term Gain

আপনি যদি ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপন চালিয়ে তার মাধ্যমে ১০ হাজার ভিজিটর ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটা Short-Term Win হবে। 

আর যদি এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট বা পোস্ট লিখে ওয়েবসাইট গুগলের বা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে আনেন তাহলে সময় বেশি লাগবে কিন্তু বছরজুড়ে প্রতিদিন বিনামূল্যে অর্গানিক ভিজিটর পাবেন। এইটা হলো Long Term Gain করা।

বিষয় শর্ট-টার্ম উইন লং-টার্ম গেইন
সময়কাল দ্রুত ফল দেয় (দিন/সপ্তাহ) ধীরে আসে (মাস/বছর)
ট্রাফিক হঠাৎ বেড়ে যায়, পরে কমে স্থায়ীভাবে বাড়ে
খরচ সাধারণত বেশি (Paid Ads) একবার খরচ, দীর্ঘ মেয়াদে ফল
স্থায়িত্ব অস্থায়ী টেকসই ও নির্ভরযোগ্য
ব্র্যান্ড অথরিটি তৈরি হয় না ধীরে ধীরে তৈরি হয়
কাস্টমার আকর্ষণ সাময়িক বিশ্বস্ত ও বারবার ফিরে আসে

শেষ কথা 

বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল দুনিয়ায় শুধু কনটেন্ট তৈরি করলে হবে না কনটেন্টকে সঠিকভাবে ভিজিটরদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আর কনটেন্ট সঠিকভাবে ভিজিটরদের কাছে পৌঁছানোর সহজ ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা।

ফেসবুক বা গুগল এড দিয়ে তাৎক্ষণিক ফলাফল বা ভিজিটর পেলেও এসইও এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্যবসাকে স্থায়ীভাবে ভিজিটর দিতে থাকে। তাই বলা যায়, কেউ অনলাইন ভিত্তিক ক্যারিয়ার, বিজনেস কিংবা কন্টেন্ট মার্কেটিং এ সফল হতে চাইলে তাকে এসইও সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। অথবা যিনি এসইও ভালো বুঝেন তাকে কাজে রাখতে হবে ‌। 

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন এসইও কি, কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন কাজ করে, এসইও কিভাবে কাজ করে, এসইও কত প্রকার, অন পেজ এসইও কি, অফ পেজ এসইও কি, টেকনিক্যাল এসইও কি, এসইও কেন করা হয় এইসমস্ত বিষয়ে। 

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে অথবা কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।


Latest
Next Post

post written by:

আমার নাম মোঃ রহিম আলী। আমি একজন সার্টিফায়েড SEO এক্সপার্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটার। ২০১৯ সাল থেকে ব্লগিং পাশাপাশি কনটেন্ট রাইটিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) নিয়ে নিয়মিত কাজ করছি। বর্তমানে আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে পাঠকদের ডিজিটাল মার্কেটিং , এসইও, ব্লগিংয়ের টিপস সহ টুকিটাকি টিপস-ট্রিকস শেখানোর চেষ্টা করব, ইনশা-আল্লাহ্‌।

0 comments: