Monday, June 2, 2025

এসইও কি, কত প্রকার, কিভাবে কাজ করে ও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজস্ব কন্টেন্ট সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসইও একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক। এসইও করার মাধ্যমে আমাদের কনটেন্টকে কাঙ্খিত পাঠক বা ক্রেতার নিকটে পৌঁছানো যায়। কিন্তু এ সময়ে এসেও এখনো অনেকেই ঠিক ভাবে জানে না এসইও কি, কেন করা দরকার এবং SEO কিভাবে কাজ করে।

ফেসবুক বা গুগল এডস এর মাধ্যমে আপনি অল্প সময়েই আপনার সাইটে ট্রাফিক আনতে পারবেন। কিন্তু ফেসবুক বা গুগল এডস এর সীমাবদ্ধতা হলো আপনার কাছে যতদিন পর্যন্ত টাকা আছে ততদিনেই ভিজিটর পাবেন। টাকা শেষ ভিজিটরদের আশাও শেষ। কিন্তু SEO এমন একটি টেকনিক যার মাধ্যমে বিনামূল্যে মাসের পর মাস, বছরে পর বছর ভিজিটর পেতে থাকবেন।

এখন নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন আসছে এসইও কি, এসইও কত প্রকার, কেন SEO করা হয়, SEO কত ধরনের, অন পেজ এসইও কি, অফ পেজ SEO কি, টেকনিক্যাল SEO কি, কিভাবে শিখব? ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকে আমি আপনাদের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন ও এসইও এর বেসিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

এসইও কি

এসইও কি ? ( What is SEO? )

SEO এর পূর্ণরূপ হলো Search Engine Optimization । তো চলুন এসইও কি বিষয়টা একটু আলাদাভাবে বোঝার চেষ্টা করি। এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে খুব কম মানুষই রয়েছেন যাদের ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজ অথবা ইউটিউব চ্যানেল নেই। আবার এখন তো ওয়েবসাইট ছাড়া সফল ব্যবসার কথা চিন্তা করাও যায় না। তবে এখন এখনো সবার ওয়েবসাইট না থাকলেও হয়তো খুব শীঘ্রই দেখব প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে একটা ওয়েবসাইট থাকবেই।

এখন মনে করেন, আপনার একটি ই-কমার্স সাইট রয়েছে অথবা একটা ওয়েবসাইট রয়েছে বা ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। আপনার ওয়েবসাইট রয়েছে এটা দেশের আরেক প্রান্তে থাকা অন্য একজন ব্যক্তি কিভাবে জানবে বা বিদেশে একজন রয়েছে সে কিভাবে জানবে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন? কিংবা আপনার একটি ই-কমার্স বিজনেসের প্রোডাক্ট অন্য আরেকজনের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে?

আপনার ওয়েবসাইট বা চ্যানেল তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার লেখা বা কনটেন্ট কে মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া অথবা ই-কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে সেলস বৃদ্ধি করা।

এসইও হচ্ছে একটি কৌশল বা পদ্ধতি, যে পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা ই-কমার্স সাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজকে দেশের আরেক প্রান্তে থাকা কিংবা বিদেশে থাকা ব্যক্তির নিকটে পৌঁছানো সম্ভব‌ হয়।

SEO এর কাজ মূলত যেকোনো ধরনের কনটেন্ট কে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে তুলে ধরা যাতে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে আপনার কনটেন্টটি কিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এবং যখন কেউ আপনার লেখা কনটেন্টের বিষয়বলি নিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করবে তখন আপনার কনটেন্টটি যেন প্রথমে দেখায়।তাহলে বলতে পারি,

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO হলো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম কানুন অনুসরণ করে কাঙ্খিত ওয়েবসাইটকে বা ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে SERPs (Search Engine Result Pages) এর প্রথমের দিকে নিয়ে আসার টেকনিক।

যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্গানিকভাবে বিনামূল্যে একটি ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করে SERPs এ দৃশ্যমানতা বাড়ানো যায় তাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও বলে।

SERPs হলো আমরা কোন কিছু গুগলে বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে সার্চ রেজাল্ট যে পেজে দেখায় সেটা। সার্চ ইঞ্জিন শব্দটা যেহেতু আমাদের সামনে চলেই আসলো তাই চলুন আগে জেনে নিই সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে।

কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন কাজ করে?

সার্চ ইঞ্জিন মূলত তার অ্যালগরিদম অনুসারে কাজ করে। প্রতিটি অ্যালগরিদমই সাধারণত তিনটি ধাপে কাজ করে।

  • Crawling
  • Indexing
  • Ranking

Crawling

ক্রলিং হলো ওয়েবসাইটকে খোঁজা । সার্চ ইঞ্জিনের Crawler বা বট (যেমনঃ গুগলের Googlebot ) ইন্টারনেটে সব সময় ঘুরে বেড়ায় এবং নতুন আপডেটেড কনটেন্ট খুঁজে।

Indexing

ক্রলিং করে ওয়েবসাইটকে খুঁজে পাওয়ার পরের কাজ হয় ক্রল করা পেজগুলোকে বিশ্লেষণ করা এবং ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইটের পেজগুলোকে বিশ্লেষণ ও ডেটাবেজে সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় ইনডেক্সিং।

Ranking

ক্রল করে ওয়েবসাইট খুঁজে, তার ডেটা বিশ্লেষণ ও ডেটাবেজে সংরক্ষণ করার পরবর্তী কাজ Ranking । ইউজার যখন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে তখন সার্চ ইঞ্জিন তার ইনডেক্স করা ডেটাবেজ থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, বিশ্বাসযোগ্য ও ইউজার ফ্রেন্ডলি কন্টেন্টগুলোকে প্রথমে দেখাবে। প্রায় ২০০ টির উপরে Ranking ফ্যাক্টর রয়েছে যার উপর নির্ভর করে গুগল Rank নির্ধারণ করে।


ধাপ কী হয়
Crawling ওয়েবসাইট স্ক্যান করা
Indexing তথ্য বিশ্লেষণ করে সংরক্ষণ করা
Ranking সবচেয়ে ভালো ও প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখানো

SEO কিভাবে কাজ করে?

এসইও কি এবং এসইও কিভাবে কাজ করে জানলাম। চলুন এইবার SEO কিভাবে কাজ করে সেটাও জেনে নিই -

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আর এটি জটিল ভাবে কাজ করে। ২০০ এর অধিক ফ্যাক্টর নিয়ে এসইও কাজ করে থাকে। কন্টেন্ট ও কিওয়ার্ডই এসইওর প্রাণ। যখন একটি কনটেন্ট উপযুক্ত কিওয়ার্ড দিয়ে লেখা হয় এবং সেই কনটেন্টকে এলগরিদমের নিয়ম অনুযায়ী গুছিয়ে সাজানো হয় ( On Page), লিঙ্ক বিল্ডিং করা হয় (Off-Page) এবং টেকনিক্যাল অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে ( Technical SEO ) প্রস্তুত করা হয়।

তারপর উক্ত কিওয়ার্ড দিয়ে যখন কেউ সার্চ করে তখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার কন্টেন্টকে SERPs এর কোথাও না কোথাও দেখাবে। আর আপনার কনটেন্ট অ্যালগরিদম ভালোভাবে মেনে চলে তবে প্রথম পেজে দেখাবে।

SEO Working Method = On page + Link Building + Technical SEO + Others 200+ Factors

এসইও কত প্রকার?

এসইও করার ধরনের উপর ভিত্তি করে এসইও তিন ধরনের-

  1. White Hat SEO
  2. Grey Hat SEO
  3. Black Hat SEO

White Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের সকল ধরনের নির্দেশনা ও নিয়মাবলী মেনে করা হয় তাই-ই হোয়াইট হ্যাট এসইও। সাধারণ অর্থে SEO বলতে হোয়াইট হ্যাট এসইওকেই বোঝানো হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী হলেও সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘসময় Rank ধরে রেখে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারে। এটা আবার ৩ ধরনের -

On-Page এসইও কি

একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্য নিজের ডোমেইনের মধ্যে যে কাজগুলো করা হয় তাকে অন-পেজ এসইও বলে।

Off-Page SEO কি

একটি ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং এর জন্য নিজের ডোমেইনের বাইরে যে কাজগুলো করা হয় সেগুলোকে অফ-পেজ এসইও বলে।

Technical এসইও কি

টেকনিক্যাল এসইও বলতে বোঝায় আপনার ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স অপটিমাইজ করা যাতে সার্চ ইঞ্জিনগুলি সহজে আপনার ওয়েবসাইটকে ক্রল, ইনডেক্স এবং র‍্যাঙ্কিং করতে পারে।

Grey Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের কিছু নির্দেশনা ও নিয়মাবলী মেনে চলে পাশাপাশি দ্রুত রেজাল্ট আনতে অসৎ পথও অবলম্বন করা হয় সেটাই গ্রে হ্যাট এসইও। এ ধরনের এসইও গুগলের কাছে বা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ধরা পড়লে র‍্যাঙ্ক হারানোর ঝুঁকি থেকে যায়।

Black Hat SEO

যে ধরনের এসইও সার্চ ইঞ্জিনের কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে করা হয় সেটাই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। এ ধরনের Seo করলে রাতারাতি ফলাফল পাওয়া যায় কিন্তু অল্প দিনেই র‍্যাঙ্ক হারিয়ে ফেলে এবং Google বা অন্য যে কোন সার্চ ইঞ্জিন ওই ওয়েবসাইটকে তাদের ডেটাবেজ থেকে রিমুভ করে দেয় আর কখনোই ইনডেক্স করে না।

প্ল্যাটফর্ম ও কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী আরো কিছু SEO

Local SEO

লোকাল ব্যবসা বা সার্ভিস অন্যের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে এসইও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় সেটাই লোকাল এসইও। যেমন: বাইরে থেকে কেউ রাজশাহীতে এলো এসে খাবার খাওয়ার জন্য তার রেস্টুরেন্ট প্রয়োজন। তো সে সার্চ করল Restaurant in Rajshahi অথবা Restaurant near me. তখন যদি আপনার স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এসইও করা হয়ে থাকে তাহলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বা রেস্টুরেন্টিতে লোকটির খেতে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। লোকাল এসইও তে গুরুত্বপূর্ণ হলো -

  • Google My Business সেটআপ
  • লোকাল কিওয়ার্ড ( যেমন: Restaurant in Rajshahi অথবা Restaurant near me)
  • রিভিউ

E-Commerce SEO

অনলাইন ভিত্তিক বা প্রোডাক্ট সেলিং ওয়েবসাইটের জন্য এসইও টেকনিক। ই-কমার্স এসইওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ-

  • প্রোডাক্ট টাইটেল
  • প্রোডাক্ট ইমেজ
  • ডিসক্রিপশন
  • Schema Markup
  • Speed Optimization
  • User Experience

WordPress SEO

ওয়ার্ডপ্রেস কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যে টেকনিক ব্যবহার করে এসইও করা হয় তাকেই ওয়ার্ডপ্রেস এসইও বলে। এখানে বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন ব্যবহার করে SEO করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্লাগিন যেমন: Yoast SEO, Rank Math ইত্যাদি প্লাগিন ব্যবহার করে খুব সহজেই এসইওর কাজ শেষ করা যায়।

YouTube SEO

ইউটিউবের ভিডিও কনটেন্টকে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসইও করা হয় সেটি ইউটিউব এসইও‌। এক্ষেত্রে ভিডিও টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ট্যাগ, থাম্বনেইল, সাবটাইটেল গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কাজ সহজ করতে নিম্নলিখিত এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়-

  • VidIQ
  • TubeBuddy
  • Keywords Everywhere
  • SEOquake

Shopify SEO

Shopify হলো স্টোর বিল্ডার। Shopify প্ল্যাটফর্মের সাইটের অনলাইনের উপস্থিতি বাড়াতে যেসকল পদ্ধতি অবলম্বন করে এসইও করা হয় সেটি হচ্ছে Shopify SEO।

On-Page SEO vs Off-Page SEO: পার্থক্য

  • On-Page SEO = আপনি যা নিজে আপনার সাইটে করেন
  • Off-Page SEO = আপনি যা বাইরের মাধ্যমে করেন (যেমন: ব্যাকলিংক)

বিষয় On-Page SEO Off-Page SEO
কাজ হয় কোথায়? নিজের ওয়েবসাইটের ভেতরে অন্য সাইট বা প্ল্যাটফর্মে
মূল উদ্দেশ্য কনটেন্ট ও স্ট্রাকচার অপটিমাইজ করা ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও অথরিটি বাড়ানো
উদাহরণ Meta Title, Meta Description, Keywords, Image ALT Text, Internal Linking, Site Speed Backlink, Social Sharing, Guest Posting, Influencer Outreach
নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না
সময় তুলনামূলকভাবে দ্রুত তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ

এসইও কেন করা হয়?

এসইও (SEO) বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা হয় মূলত একটি ওয়েবসাইট বা অনলাইন কন্টেন্টকে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে ভালোভাবে র‍্যাংক করানোর জন্য। সহজভাবে বললে, এসইও করার উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ পোস্ট সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে মানুষের খোঁজার সময় উপরের দিকে আসে এবং বেশি ভিজিটর পায়। নিচে এসইও করার প্রধান কিছু কারণ দেওয়া হলো:

অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে

এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিন থেকে বিনামূল্যে (অর্গানিক) ভিজিটর পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনের মতো আলাদা করে টাকা খরচ না করেও ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসতে থাকে।

ব্র্যান্ডের ভিজিবিলিটি বা উপস্থিতি বাড়ানো

যখন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পাতায় থাকে, তখন আপনার ব্র্যান্ড বা ব্যবসার প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

বিশ্বস্ততা ও অথরিটি তৈরি করা

একটি ভালো এসইও করা ওয়েবসাইটকে সাধারণত গুগল “বিশ্বস্ত” ও “অথরিটেটিভ” বলে ধরে নেয়। এতে করে ইউজাররাও সেই সাইটকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বেশি কাস্টমার পাওয়া ও বিক্রি বাড়ানো

বিশেষ করে ই-কমার্স বা সার্ভিস ভিত্তিক সাইটগুলোর জন্য এসইও অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করে।

লং-টার্ম রেজাল্ট পাওয়া

একবার ভালোভাবে এসইও করলে এর ফলাফল দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বিজ্ঞাপনের মতো বিষয়গুলোতে টাকা খরচ বন্ধ করলেই ভিজিটর কমে যায় কখনো কখনো আর আসেই না।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা

প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান যদি এসইও করে, আর আপনি না করেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই বাজারে টিকে থাকার জন্য এসইও অপরিহার্য।

Short-Term Win vs Long Term Gain

আপনি যদি ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপন চালিয়ে তার মাধ্যমে ১০ হাজার ভিজিটর ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটা Short-Term Win হবে। 

আর যদি এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট বা পোস্ট লিখে ওয়েবসাইট গুগলের বা অন্য যেকোন সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে আনেন তাহলে সময় বেশি লাগবে কিন্তু বছরজুড়ে প্রতিদিন বিনামূল্যে অর্গানিক ভিজিটর পাবেন। এইটা হলো Long Term Gain করা।

বিষয় শর্ট-টার্ম উইন লং-টার্ম গেইন
সময়কাল দ্রুত ফল দেয় (দিন/সপ্তাহ) ধীরে আসে (মাস/বছর)
ট্রাফিক হঠাৎ বেড়ে যায়, পরে কমে স্থায়ীভাবে বাড়ে
খরচ সাধারণত বেশি (Paid Ads) একবার খরচ, দীর্ঘ মেয়াদে ফল
স্থায়িত্ব অস্থায়ী টেকসই ও নির্ভরযোগ্য
ব্র্যান্ড অথরিটি তৈরি হয় না ধীরে ধীরে তৈরি হয়
কাস্টমার আকর্ষণ সাময়িক বিশ্বস্ত ও বারবার ফিরে আসে

শেষ কথা 

বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল দুনিয়ায় শুধু কনটেন্ট তৈরি করলে হবে না কনটেন্টকে সঠিকভাবে ভিজিটরদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আর কনটেন্ট সঠিকভাবে ভিজিটরদের কাছে পৌঁছানোর সহজ ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করা।

ফেসবুক বা গুগল এড দিয়ে তাৎক্ষণিক ফলাফল বা ভিজিটর পেলেও এসইও এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্যবসাকে স্থায়ীভাবে ভিজিটর দিতে থাকে। তাই বলা যায়, কেউ অনলাইন ভিত্তিক ক্যারিয়ার, বিজনেস কিংবা কন্টেন্ট মার্কেটিং এ সফল হতে চাইলে তাকে এসইও সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। অথবা যিনি এসইও ভালো বুঝেন তাকে কাজে রাখতে হবে ‌। 

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন এসইও কি, কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন কাজ করে, এসইও কিভাবে কাজ করে, এসইও কত প্রকার, অন পেজ এসইও কি, অফ পেজ এসইও কি, টেকনিক্যাল এসইও কি, এসইও কেন করা হয় এইসমস্ত বিষয়ে। 

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে অথবা কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।


Saturday, May 31, 2025

ব্লগ কি? কীভাবে ফ্রি ব্লগ খুলবেন ও আয় শুরু করবেন A to Z

ব্লগ শব্দটির সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা জানেন না যে , ব্লগ কি? যারা গুগল থেকে ব্লগ সম্পর্কে প্রথম জেনেছেন তাদের বেশির ভাগ লোকই Google সার্চ বক্সে অনলাইনে আয় করার উপায় লিখে সার্চ করে ব্লগের সাথে পরিচিত হয়েছেন। অনেকের কাছে ব্লগ মানে অনলাইনে আয় করার একটা মাধ্যম। তবে , সত্যি কি তাই? না , সত্যি বলতে ব্লগার অর্থ অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত । এই পোস্টটিতে

ব্লগ কি? কীভাবে ফ্রি ব্লগ খুলবেন ও আয় শুরু করবেন (স্টেপ বাই স্টেপ গাইড)


সর্বপ্রথম বাংলা ব্লগের সূচনা হয়েছিল ২০০৫ সালে । তবে বর্তমানে বাংলা ব্লগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্লগারা এই বাংলা ব্লগের পরিধি বৃদ্ধি করতে যথেষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রথমে জানতে হবে ব্লগ কি ? 

ব্লগ কি ?

ব্লগ হলো web এবং log শব্দ দুটির সংমিশ্রণে তৈরি একটি শব্দ। ব্লগ একটি ওয়েব পেজ ছাড়া কিছুই না। যারা ব্লগিং করে তাদের বলা হয় ব্লগার । একটু গুছিয়ে বলতে গেলে , ব্লগাররা তাদের ব্লগে Creativity , Ideas এবং information শেয়ার করে। একটি ব্লগে ব্লগাররা যে কনটেন্ট লিখে তাকে ব্লগ পোস্ট বলে। এই পোস্টে সাধারণ ব্যক্তিগত মতামত , অভিজ্ঞতা , চিন্তা ভাবনা , খবর ইত্যাদি শেয়ার করা থাকে। একটা ব্লগ পোস্টকে সুন্দর করে তুলতে লেখালেখি সাথে ফটো , ভিডিও আপলোড করা থাকে যাতে একজন পাঠকের কাছে সেই পোস্ট থেকে পাওয়া ধারণা স্পষ্ট হয়। যারা ব্লগ নিয়মিত পড়ে বা ভিসিট করে তাদেরকে রিডার বা পাঠক বলা হয়।


ব্লগকে একটা বইয়ের সাথে তুলনা করতে পারি। এক্ষেত্রে পুরোটা বইকে বলা হবে ব্লগ । বইটা যে লেখক লিখেছেন সেই লেখককে বলা হয় ব্লগার । লেখক বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠাকে বলা হবে ব্লগ পোস্ট। আর যারা বইটি পাঠ করবে তার হবেন পাঠক। এবারে নিশ্চয় ব্লগ কি পরিষ্কার হয়েছে।

ব্লগের গঠন -

ব্লগ সাধারণত গঠিত হয় ৬ টি অংশ নিয়ে । সেগুলো হলো: Header , Footer , Navigation bar , Body , Left sidebar , Right Sidebar . তবে অনেক ব্লগে দুই একটা অংশ বা section নাও থাকতে পারে। ব্লগের কয়টি অংশ নিয়ে তৈরি হবে সেটা নির্ভর করে ব্লগারের রুচির উপর। তবে ব্লগ সম্পর্কে জানতে হলে এগুলোর সম্পর্কে জানতে হবে

Header: হেডার ব্লগের সবচেয়ে উপরের অংশ । এই অংশে ব্লগের লোগো থাকে। একটা লোগোকে ব্লগের প্রতিচ্ছবি বলা চলে। ব্লগের জন্য একটি লোগো খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক ব্লগের জন্য একটি লোগো আবশ্যিক।

Footer : ফুটার ব্লগের নিচের অংশ। নিচের অংশে ব্লগের কপিরাইট নীতিমালা , About Me , Contact , Terms and conditions , Disclaimer ইত্যাদি থাকে।

Navigation bar : নেভিগেশন বার হেডারের নিচে থাকে। ব্লগের জন্য নেভিগেশনবার জরুরী। Navigation Bar দেখে পাঠকরা ব্লগের কনন্টেট সম্পর্কে একটা ধারণা পায় আর তার চাহিদা অনুযায়ী কনন্টেট বেছে নেয়। এছাড়া ব্লগের এই অংশটা অপরিষ্কার ও অগোছালো হলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন দেয় না।

Left and Right Sidebar : সাইডবারগুলোতে সাধারণ সপ্তাহের সেরা পোস্টগুলো , ক্যাটাগরি , ট্যাগ , সোসিয়াল নেটওয়ার্কের লিংক , সাবস্ক্রিপশনের লিংক ব্যাবহার করা হয়। তবে অনেক ব্লগে সাইড বার নাও থাকতে পারে।

Body : উপরে উল্লেখিত সকল Section এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেকশন হলো body section . এখানে ব্লগের সব পোস্ট লিপিবদ্ধ করা থাকে। ব্লগের সকল আপডেট পোস্ট এখান থেকেই পাঠকরা পড়তে পারে। এই বডি সেকশনে ব্লগের প্রান , কনন্টেট থাকে। Home page এ সাধারণ কনন্টেট সাজানো থাকে।

উপরের section গুলো ছাড়াও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেকশন একটি ব্লগে থাকতে পারে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেকশন গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সেকশন হলো Comment section। কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে পাঠকর তাদের মতামত ব্লগারের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

ব্লগ কি ,  ব্লগের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরে জানতে হবে ব্লগ কত ধরনের হয় । ব্লগের জনপ্রিয়তা যতই বাড়ছে ততই  ব্লগের ধরনের সংযোজন হচ্ছে। ব্লগ অনেক ধরনের হয় যেমনঃ প্রযুক্তি ব্লগ , ব্যক্তিগত ব্লগ ,সোসিয়াল ব্লগ , নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগ , ফটো ও ভিডিও ব্লগ , ট্রাভেল ব্লগ , টিপস এন্ড ট্রিক্স ব্লগ ইত্যাদি

প্রযুক্তি ব্লগ : এই ধরনের ব্লগে প্রযুক্তি সম্পর্কে পোস্ট করা হয়। ব্লগের মধ্যে বর্তমানে প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগের সংখ্যা অনেক বেশি । প্রযুক্তি ব্লগের কনন্টেটের মদ্ধ্যে আছে কম্পিউটার , ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত ব্লগ : ব্যক্তিগত ব্লগে ব্লগার তার নিজের ইচ্ছেমত কনন্টেট নিয়ে কাজ করে। ব্যক্তিগত ব্লগের কনন্টেটের মধ্যে রয়েছে নিজস্ব মতামত শেয়ার , নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো , অন্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া , অভিজ্ঞতা শেয়ার প্রভৃতি।

সোসিয়াল ব্লগ : সোসিয়াল ব্লগ বলতে সামাজিক ব্লগ বলা হয়। এই ধরনের ব্লগে সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগ : নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগে প্রতিদিন খবর প্রকাশ করা হয়। এই ধরনের ব্লগগুলো নিয়মিত আপডেট রাখা হয়। ইভেন্টসের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্লগকে গড়ে তোলা হয়।

ফটো ও ভিডিও ব্লগ : ব্লগের ক্যাটাগরিতে সর্বশেষ সংযোজনের মধ্যে অন্যতম হলো ফটো ও ভিডিও ব্লগ । এই ধরনের ব্লগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ভিডিওর জন্য ইউটিউব থাকায় ব্লগের ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্লগারের সংখ্যা কম । তবে আপনার কাছে ভালো মানের DSLR camera থাকলে ফটো ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

Travel blog : ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি ব্লগ হলো ট্রাভেল ব্লগ। ট্রাভেল ব্লগে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা , ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয় । ট্রাভেল ব্লগ জনপ্রিয় ব্লগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

টিপস-এন্ড-ট্রিকস ব্লগ : নিত্য জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই সমস্যার সমাধান দেওয়ার তাগিদে প্রথম ট্রিপস এন্ড ট্রিকস ব্লগের সূচনা হয়। এই ধরনের ব্লগে নিত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের জন্য সহজ ও সাবলীল উপায় নিয়ে পোস্ট করা হয়।

২০২৫ সালে এসে ব্লগিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন ?

ব্যবসা শুরু করতে যেমন মূলধন দরকার তেমনি ব্লগিং শুরু করতে চাইলে কিছু জিনিস প্রয়োজন পড়বে। যেমন: একটা আইসিটি ডিভাইস , একটি ডোমেইন ও হোস্টিং , থিম বা টেমপ্লেট এবং কনন্টেট।

আইসিটি ডিভাইস

ব্লগিং শুরু করতে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দরকার সেটা হলো একটা আইসিটি ডিভাইস অর্থাৎ একটা কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ তবে স্মার্টফোন হলেও কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে। ব্লগের দেখাশোনা , কাষ্টমাইজেশন , পোস্ট করা সহ সকল কাজ করতে এই ইলেকট্রিক বা আইসিটি ডিভাইজের প্রয়োজন পড়বে।

ডোমেইন ও হোস্টিং

ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজের পরে প্রয়োজন হবে ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের । ডোমেইন বলতে বোঝায় ব্লগের নামকে। হোস্টিং হলো একটি স্পেস যেখানে ব্লগের কনন্টেটগুলো থাকবে। বর্তমানে অনেক ভালো ভালো ডোমেইন ও হোস্টিং প্রোভাইডার আছে। যেমন: GoDaddy, Namecheap ইত্যাদি ‌‌। বেশিরভাগ ভালো মানের ডোমেইন ও হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানি বিদেশি হওয়ায় ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার জন্য ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশেও কিছু কোম্পানি চালু হয়েছে যেগুলোর পেমেন্ট মেথড হিসেবে বিকাশ বা নগদ যোগ করেছে। আপনি চাইলে ডোমেইন ও হোস্টিং একই কোম্পানি থেকে নিতে পারেন আবার ভিন্ন কোম্পানি থেকেও নিতে পারেন।

Theme or Template

ব্লগের ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়া শেষ হলে প্রয়োজন এটাকে সুন্দর ভাবে সাজানো বা ডিজাইন করা। এর জন্য আপনাকে একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনারের সাথে যোগাযোগ করে তার থেকে ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন অথবা টেমপ্লেট কিনে নিতে পারেন। এই টেমপ্লেট বা থিমই আপনার ব্লগের আউট লুক দেবে। ব্লগের ডিজাইন  যতটা ভালো হবে পাঠকরা ততটাই আকৃষ্ট হবে।

কনন্টেট 

ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনার কাছে অবশ্যই কনন্টেট থাকার দরকার। আপনার কাছে কনটেন্ট না থাকলে আপনি ব্লগে কি পোস্ট করবেন আর পাঠকই বা কি পড়তে আপনার ব্লগে আসবে। তাই ব্লগ তৈরি করার সময় আপনি কি কনটেন্ট নিয়ে কাজ করবেন সেটা ঠিক করে নিবেন। কনন্টেট হলো আপনি যে বিষয়ে লেখালেখি করবেন সেটা। যেমন:  প্রযুক্তি বিষয়ে লেখালেখি করলে প্রযুক্তি হলো কনটেন্ট।

ব্লগিং কিভাবে শুরু করব ?

যারা নতুন ব্লগ সম্পর্কে জানে তাদের সবার প্রশ্ন থাকে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো ? ব্লগিং শুরু করতে উপরের উল্লেখিত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর পর দরকার প্রচুর পরিমাণে তথ্য থাকা , যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে যাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে জ্ঞান রাখা। যাতে ব্লগিং শুরু করে কনন্টেটের অভাবে ব্লগিং ছেড়ে না দিতে হয় । অনলাইনে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশীরভাগ নতুন ব্লগাররা কনন্টেটের অভাবে ব্লগিং বন্ধ করে দেয়।

এরপরে প্রয়োজন ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন বা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের ! নয়তো বাংলাদেশের বর্তমানে নেটওয়ার্কের যে সমস্যা তাতে দুইদিনেই ব্লগিংয়ের নেশা শেষ হয়ে যাবে। তাই ব্লগিং করার আগে ব্লগিং সম্পর্কে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে আরো বিস্তারিত জেনে নিবেন।

ব্লগিং করার সেরা দুটি প্লাটফর্ম 

বই লেখার জন্য যেমন অনেকগুলো পেজ বা পাতা   প্রয়োজন তেমনি ব্লগিং শুরু করার জন্যেও একটা প্লাটফর্ম দরকার। ইন্টারনেট জগতে অনেক ব্লগিং প্লাটফর্ম আছে । তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্লগিং প্লাটফর্ম হলো BloggerWordPress। দুইটা প্লাটফর্মই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

Blogger.com 

হলো গুগল পরিচালিত একটি ব্লগিং প্লাটফর্ম । নতুনদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিনামূল্যে ব্যবহারযৌগ্য মাধ্যম। এখানে বিনামূল্যে শুধুমাত্র একটি ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে যেকেউ একটি ব্লগ সাইট ও ডোমেইন নেম পেয়ে যাবে। এইখান থেকে ব্লগ তৈরি করলে প্রতিটা ব্লগের নামের সাথে .blogspot.com থাকে। তবে চাইলে Custom Domain যোগ করতে পারবেন।





Blogger.com

WordPress

ব্লগিংয়ের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম হলো WordPress । তবে এখানে Blogger -এর মত ফ্রিতে কোন সাব-ডোমেইন পাবেন না। এর জন্য আপনাকে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হবে। WordPress হলো একটি CMS । ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ তৈরি করতে যেহেতু টাকার প্রয়োজন তাই Beginner রা Blogger.com ব্যাবহার করতে পারেন।

ব্লগ থেকে কি ফ্রিতে টাকা ইনকাম করা যায় ?

আমেরিকা , ভারত , চীন ইত্যাদি দেশের ব্লগাররা ব্লগিংকে ফুলটাইম জব হিসেবে গ্রহণ করছে এবং বিশাল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন। তাহলে বুঝতে পারছেন ব্লগিং করে টাকা আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের ব্লগাররাও ভালো একটা অর্থ আয় করছেন তবে খুব কম ব্লগার এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু , যখন প্রশ্ন টাকা আয় করা যায় কিনা সেটার উত্তর, হ্যাঁ অবশ্যই টাকা আয় করা যায়।

ব্লগিং করে ফ্রিতে টাকা ইনকাম 

আপনারা তো ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছেন ব্লগিং করে ফ্রিতে  টাকা ইনকাম করা সম্ভব। তাহলে এবারের প্রশ্ন কিভাবে ব্লগ থেকে ফ্রিতে টাকা ইনকাম করতে হয়? মূলত অনেক ভাবে একটি ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম করা যায়। ব্লগ থেকে আয় করর জনপ্রিয় ৩ টি মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করব। আয় করার তিনটি উপায় হলো- গুগল এডসেন্স , মার্কেটিং ও affiliate marketing এবং নিজস্ব পণ্য বিক্রি করে।

Google Adsense


ব্লগ থেকে আয় করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো গুগল এডসেন্স। ভালো মানের ৪০-৫০ টা ইউনিক আর্টিকেল থাকলে এবং আপনার ব্লগ গুগলের সকল নিয়ম নীতি মেনে চললে গুগল এডসেন্স থেকে আপনার ব্লগ এডস দেখানোর জন্য অনুমোদন পাবে। ব্লগে যত বেশি ভিজিটর আসবে আপনার ইনকাম তত বেশি হবে। 

গুগল এডসেন্স তাদের এডসে ক্লিকের হিসেবে একটা অর্থ পেমেন্ট করে। ব্লগে এডসেন্সের এড দেখানো প্রত্যেকটা ব্লগারের একটা স্বপ্ন বলতে পারেন। ভিজিটর থাকলে গুগল এডসেন্স থেকে মাসিক $200 - $1000 টাকা আয় করা সম্ভব।

Marketing and Affiliate marketing 

গুগল এডসেন্সের পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত ব্লগ থেকে আয় করর মাধ্যম হচ্ছে মার্কেটিং ও এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং । বর্তমানে অনেক মার্কেটিং ও এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সাইট তৈরি হয়েছে যেমন: Amazon , Filpcart , Alibaba ইত্যাদি। আগে চলুন মার্কেটিং কী সেটা জেনে নিই। একটা উদাহরণের সাহায্য মার্কেটিং বোঝানো যাক , মনে করেন আপনি অ্যামাজন থেকে একটি পণ্যের মার্কেটিং লিংক কপি করে আপনার ব্লগে দিলেন আর সেই লিংকে ক্লিক করে কেউ ঐ পণ্যটি কিনল তবে আপনি Amazon থেকে একটা টাকা পাবেন আর এই প্রক্রিয়া হলো মার্কেটিং। 

অ্যফিলিয়েট মার্কেটিং বা প্রোগ্রাম বিষয়টা কিছুটা মার্কেটিংয়ের মতোই। এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার সাইটে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে রেফারেল লিংক আপনার ব্লগে দিয়ে কাউকে ঐ মার্কেটপ্লেসে কাজ করানো জন্য রেফারেন্স করতে পারেন তবে ঐ মার্কেটপ্লেস আপনাকে কিছু অর্থ পে করবে।

নিজস্ব পণ্য বিক্রি

আপনার ব্লগে যদি প্রতিদিন অনেক অনেক ভিজিটর আসে তাহলে আপনি চাইলেই আপনার ব্লগের ধরনের উপর ভিত্তি করে পণ্য বা দ্রব্য বিক্রি করে ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন। মনে করেন, আপনার ব্লগটি প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ । অর্থাৎ আপনার ব্লগে প্রযুক্তি প্রেমিকরা নিয়মিত ভিজিট করে । আর এই ব্লগে আপনি যদি খাবার বিক্রি করেন তবে কেউ আগ্রহী হয়ে কিনবেন না কিন্তু আপনি যদি প্রযুক্তি সঙ্গে রিলেটেড পণ্য যেমন: মোবাইল, কম্পিউটার , ঘড়ি ইত্যাদি বিক্রি করেন তবে ভিজিটররা আগ্রহ দেখিয়ে কিনবেন। আর এর সাথে আপনার ব্লগ থেকে আয়ও হতে থাকবে। কিন্তু, এইভাবে আয়ের বিষয়টি Google Adsense এবং Marketing and Affiliate marketing এর মতো ততটা জনপ্রিয় নয়।


কিভাবে Blogger.com থেকে বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করবেন?

ব্লগ তৈরি করার জন্য অনেক প্লাটফর্ম গুগলে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন । সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ তৈরি করার প্লাটফর্ম হলো Blogger ও WordPress । ব্লগারে চাইলে আপনি বিনামূল্যে একটি ব্লগ খুলে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারবেন কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেসে বিনামূল্যে শুরু করতে পারবেন না । ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ তৈরি করতে হলে Domain and hosting দরকার পড়বে। নতুনদের জন্য এটা একটু সমস্যা তৈরি করতেই পারে । তাই আজকে আমি আপনাদের WordPress থেকে নয় বিনামূল্যে Blogger থেকে ব্লগ তৈরি করা , ব্লগ Customize করা , ব্লগে পোস্ট করা শেখাব । তাই আপনার কোন টাকার প্রয়োজন হবে না। তো যখন Blogger.com থেকে ব্লগ তৈরি করা শেখাবো তাই আগে চলুন Blogger সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

Blogger.com হলো টেক জায়ান্ট গুগলের একটি পরিসেবা। ব্লগারের জন্ম ১৯৯৯ সালে পায়রা ল্যাব নামের একটা কোম্পানির হাত ধরে। গুগল পায়রা ল্যাবের কাছ থেকে ২০০৪ সালে Blogger.com কিনে নেয় এবং ডেভলপ করতে থাকে । Blogger হলো প্রথম ব্লগিং কমিউনিটি যেখানে পাঠকরা লেখকের লেখা পড়ার পাশাপাশি মন্তব্য করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ওয়েব সাইট বানালে ডোমেইন নেমের সাথে .com , .net , .org , .xyz ইত্যাদি extension থাকে কিন্তু ব্লগারের ক্ষেত্রে ডোমেইন নেমের পরে সাব ডোমেইন . blogspot.com থাকে ।যদিও আপনি চাইলে কাষ্টম ডোমেইন যেমন: .com , .net , .org , . info ইত্যাদি যোগ করে নিতে পারেন।

ব্লগার থেকে ব্লগ তৈরি করার জন্য প্রয়োজন হবে একটি ই-মেইল এ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড । ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে খুব সহজে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আপনি একটা ব্লগ সাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন। তবে আমি আপনাদের Step by step দেখিয়ে দেব কিভাবে একটি ব্লগ তৈরি করবেন। এই আর্টিকেলে মূলতঃ ৪ টি স্টেপে আলোচনা করব। ১ম স্টেপে কিভাবে ব্লগ খুলতে হবে তা দেখাব , ২য় স্টেপে ব্লগারের Dashboard এর সাথে পরিচিত করিয়ে দেব , ৩য় স্টেপে কিভাবে নতুন পোস্ট করতে হয় তা দেখাব এবং ৪ র্থ স্টেপে Google Search Console এ সাইট ও সাইটম্যাপ সাবমিট করা শেখাব। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন;

Step 1: ফ্রিতে ব্লগ তৈরি

প্রথমে Blogger.com এ যান

Blogger.com

Blogger.com -এ যাবার পর Create your blog এ ক্লিক করুন।

জিমেইল অ্যাকাউন্ট লগইন

Create এ ক্লিক করার পর উপরের মতো একটি বক্স আসবে । আপনার আগে থেকে যদি একটি ইমেইল এড্রেস থাকে তবে সেটা দিয়ে দিবেন দিয়ে Next এ ক্লিক করবেন আর যদি না থাকে তবে একটা নতুন জিমেইল খুলে নিবেন। ই-মেইল এ্যাড্রেস দেওয়া পর আপনার জিমেইলের পাসওয়ার্ড চাইবে । ঐখানে আপনার পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর Next এ ক্লিক করতে হবে।

ব্লগের নাম ব্লগ তৈরি

Next এ ক্লিক করলে উপরের স্ক্রিনশটের মতো একটা পেজ আসবে । আর এখানে আপনার ব্লগের জন্য একটি নাম চাইবে। এখানে আপনি আপনার ব্লগের নাম দিবেন । যেমন: আপনার ব্লগের নাম যদি হয় Example তাহলে আপনাকে ঐ ফাঁকা বক্সে লিখতে হবে Example . ব্লগের নাম দেওয়া হলে Next এ ক্লিক করুন

ব্লগ তৈরি ও ব্লগের এডড্রেস দেওয়া


ব্লগের নাম দেওয়ার পরের ধাপ হচ্ছে ব্লগের ঠিকানা বা Address দেওয়া । ব্লগ তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ব্লগের ঠিকানা দেওয়া। প্রত্যেকটা ব্লগের একটা ইউনিক বা অনন্য ঠিকানা থাকে । এই ঠিকানা ব্রাউজারের এড্রেস বারে দিলে ব্রাউজার পাঠককে আপনার ব্লগে নিয়ে যাবে । আপনি উপরে দেখানো বক্সে যে নামটি দিবেন তার পরে আপনার ব্লগের ডোমেইনের সাথে এদের সাব-ডোমেইন . blogspot যোগ হবে। উদাহরণ স্বরূপ: আপনার ব্লগের ঠিকানা যদি Example দিন তবে আপনার ব্লগের এডড্রেস হবে example.blogspot.com । ব্লগের Address দেওয়া হলে Next বাটনে ক্লিক করুন।

Blogger

এবারে ব্লগ তৈরির শেষ ধাপ।এখন আপনার নাম উপরের স্ক্রিনসটের মতো করে বক্সে ঔ দিতে হবে। মনে রাখবেন এই নামটা আপনার নাম হবে। এই নামটা আপনার ব্লগের পোস্টে উল্লেখ হবে। পাঠকদের সামনে এই নাম দিয়ে আপনি পরিচিত হয়ে উঠবেন। নাম লিখার শেষ হলে Finish এ ক্লিক করুন। Finish এ ক্লিক করলে আপনাকে ব্লগারের Dashboard এ নিয়ে যাবে আর সাথে সাথে ব্লগ তৈরি করার কাজ শেষ হবে। এবার ব্লগারের Dashboard সম্পর্কে জানতে হবে।

Step 2 ব্লগারের Dashboard পরিচিতি

ব্লগারে ব্লগ তৈরি করার পরের প্রয়োজনীয় কাজ হলো ব্লগারের ড্যাসবোর্ডের সাথে পরিচিত হওয়া। ব্লগারের ড্যাসবোর্ড ব্যবহার করে ব্লগ কাষ্টমাইজ করা , ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট করা , পুরাতন পোস্ট Editing করা , নতুন Wegets যোগ করা , ব্লগের এসইও, কাষ্টম ডোমেইন এড করা হয়। এ সম্পর্কে এই আর্টিকেলেই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ব্লগের Dashboard পরিচিতি


এবারে চলুন ব্লগের ড্যাসবোর্ড সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

  1. New Post : নতুন ব্লগ পোস্ট করতে New Post ব্যবহার করা হয়।
  2. Posts : এখান থেকে আপনি নতুন পোস্ট করা , পূর্বের পোস্ট সম্পাদনা করা , পোস্ট ডিলিট করা , পোস্টে লেবেলিং করা , লিংক সেট করার কাজ করতে পারবেন
  3. Stats: ব্লগের পরিসংখ্যান দেখতে stats অপশনটি ব্যবহার করা হয়। এইটা দিয়ে ব্লগে আজকে কতজন ভিজিটর ভিজিটিং করেছে । গতকাল , গত সপ্তাহের এবং পুরোটা মাসে কতজন ভিজিট করেছে তাও দেখতে পাবেন । এমনকি কোন পোস্টে কত ভিউ হয়েছে সেটা দেখাও সম্ভব। 
  4. Pages : ব্লগের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেজ তৈরি করার দরকার হয়। আর এই অংশটা ব্যবহার করে সেই গুরুত্বপূর্ণ পেজ তৈরি করা হয়। যেমন: Contact Us , About Me , Disclaimer , Privacy policy ইত্যাদি ।
  5. Layout : লেআউট ব্যবহার করে ব্লগকে Customize করা যায় , ব্লগের সকল কনন্টেট সুন্দর ভাবে সাজানো যায় , নতুন Wegets যোগ করা হয় ।
  6. Theme : থিম হলো ব্লগের আউটলুক , যে ব্লগের আউটলুক ভালো পাঠকেরা সেই ব্লগে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। তাই আপনাকে থিম বিষয়টাতে জোর দিতে হবে। অনলাইন মার্কেটে অনেক পেইড ও ফ্রি ভালো মানের থিম পাওয়া যায় সেখান থেকে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। 
  7. Comments : ব্লগের পোস্ট পড়ে ভিজিটরদের কেমন লেগেছে , কে কি মন্তব্য করেছে তা দেখা যায় এই Comments এর মাধ্যমে । এই অংশটা লেখককে পাঠকদের সাথে আরপাঠকদের লেখকের সাথে সংযুক্ত করে।
  8.  Earnings : Google Adsense আপনার ব্লগকে অনুমোদন করলে এখান থেকে কেমন উপার্জন হয়েছে তা দেখতে পাবেন। Adsense এ অনুমোদন না থাকলে আবেদন করা যায় ।ব্লগকে Adsense এর সাথে connect করে।
  9. Settings : সেটিংস দিয়ে ব্লগের নাম পরিবর্তন , Address পরিবর্তন ,কাষ্টম ডোমেইন যোগ করা , description যোগ , Favicon setup , Google Search Console , SEO এর কাজ করা যায়।

Step 3: ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম

ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম
ব্লগে পোস্ট করার আগে যে বিষয়ে পোস্ট করতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ,কিওয়ার্ড রিসার্চ করে বসে পড়ুন । আমি এবারে ব্লগে পোস্ট করা শেখাব । প্রথমে New Post -এ ক্লিক করতে হবে। 

তারপর , দ্বিতীয় ধাপে আপনার পোস্টের শিরোনাম দিতে হবে , শিরোনামে আপনার মেইন কিওয়ার্ড দিলে ভালো হয় । keyword কি? এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত লিখবো।

কিভাবে ব্লগে সহজে আর্টিকেল লিখব?

তৃতীয় ধাপে Html অবা Compose view নির্বচন করতে হবে । আপনি যদি Html জানেন তবে। Html select করবেন আর না জানলে Compose view select করবেন। এইচটিএমএল সিলেক্ট করলে আপনাকে প্রতিটি লেখা এইচটিএমএল কোডের ভেতরে লিখতে হবে আর Compose view নির্বাচন করলে আপনি স্বাভাবিক ভাবে লিখতে পারবেন। ৪ র্থ ধাপে পোস্টের ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। Category আপনার পোস্টের বিষয় অনুযায়ী দিবেন। যেমন: আপনি যে আর্টিকেল পড়ছেন এইটা ব্লগ সম্পর্কিত তাই এই আর্টিকেলের Category ব্লগ


৫ম ধাপে পোস্টের লিংক দিতে হবে। এই লিংকে আপনার পোস্ট থাকবে । এই লিংক শেয়ার করে অন্যকে আপনার আর্টিকেল সম্পর্কে বলতে পারবেন। তবে লিংক না দিলেও অটোমেটিক একটা লিংক সেট হয়ে যাবে। তবে নিজে থেকে লিংক দিলে বেশি ভালো হয়।


৬ ষ্ঠ ধাপে উপরের Screenshotএ দেখানো step 5 অনুসরণ করে পোস্টে ফটো, ভিডিও লিংক দিতে পারবেন।


৭ম ধাপে আপনার আর্টিকেল লিখতে হবে। মনে রাখবেন আপনার আর্টিকেল পড়তেই ভিজিটর আপনার ব্লগ ভিজিট করে । আর্টিকেল ভালো লাগলে নিয়মিত ভিজিট করবে আর ভালো না লাগলে আর ভিজিট করবে না। তাই আর্টিকেল যথেষ্ট তথ্যবহুল হতে হবে। 


শেষ ধাপে আপনাকে উপরের দিকে ডান পাশের কমলা রঙের Publish বাটনে ক্লিক করতে হবে তাহলে আপনার পোস্ট ভিজিটরদের বা পাঠকদের সামনে প্রদর্শিত হবে।

Step 4: Google Search Console-এ ব্লগ Submit

একটা ব্লগ তৈরি করা শেখা হলো । ব্লগের Dashboard এর সাথে পরিচিত হওয়া হয়েছে ,কিভাবে ব্লগে পোস্ট করতে হয় সেটাও শিখিয়েছি এবার পালা Google Search Console -এ ব্লগকে এড করতে হয় সেটা। তো চলুন শুরু করা যাক

Google Search Console Add


প্রথমে ব্লগের Dashboard এ যেতে হবে। তারপর Settings এ ক্লিক করতে হবে  
সার্চ ইঞ্জিনে ব্লগ কিভাবে আনব

Settings এ গিয়ে নিচের দিকে স্ক্রল করে Crawlers and indexing এ এসে Google Search Console -এ ক্লিক করতে হবে। গুগল সার্চ কনসোলে যাবার পর নিচের মত একটা ইন্টারফেস আসবে

Google Search Console 2




এখানে Screenshotএর মতো ফাঁকা বক্সে আপনার ব্লগের Address দিতে হবে তারপর Continue এ ক্লিক করুন । যেমন: আপনার ব্লগের এডড্রেস Example.blogspot.com হলে ঐ বক্সে Example.blogspot.com দেওয়া লাগবে।

link submit success

Continue করলে Ownership auto verified হয়ে যাবে। তারপর Go to Property তে যেতে হবে।

click 4 dot

তারপর যে পেজ আসবে সেই পেজের উপরের দিকের 3 dot এ ক্লিক করতে হবে

Sitemap Submit




এবার Sitemap এ ক্লিক করতে হবে। 





 হয় এ ক্লিক করা হলে উপরের মত একটা ইন্টারফেস আসবে এখানে আপনার ব্লগের নামের পর /sitemap.xml লিখতে হবে । উদাহরণ স্বরূপ : আপনার ব্লগের Address

https://Example.blogspot.com হলে আপনার সাইট ম্যাপ হবে:        https://Example.blogspot.com/sitemap.xml ।

 সাইট ম্যাপ দেওয়া হলে Submit করতে হবে। তাহলে আপনার ব্লগ গুগলের কাছে সংরক্ষিত হয়ে যাবে। এবং কিছুক্ষণ অথবা কিছু দিন পর আপনার ব্লগ গুগল সার্চে প্রদর্শিত হবে।


শেষ কথা

কেমন লাগলো এই আর্টিকেল? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না আর হ্যাঁ, এই আর্টিকেল পড়ে নতুন কিছু শিখলেন কিনা তাও কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ।

Friday, May 30, 2025

সফল ব্লগার হওয়ার ৬টি গোপন টিপস: যেভাবে ধৈর্য ধরে ব্লগিং চালিয়ে যাবেন

ব্লগিং অতি পরিচিত একটি শব্দ। বর্তমানে এই ব্লগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়েব ট্রাইব্যুনালের মতে সারা বিশ্বে ১.৯ বিলিয়ন ওয়েব সাইট এর মধ্যে ৬০০ মিলিয়নের অধিক ব্লগ রয়েছে

ধৈর্য ধরে ব্লগিং করা, বাংলা ব্লগারদের জন্য গাইড, সফল ব্লগার হওয়ার উপায়

এই ৬০০ মিলিয়নের ব্লগার পরিবারের মধ্যে অসংখ্য বাংলা ভাষার ব্লগ রয়েছে।প্রতিদিন নতুন নতুন ব্লগাররা যোগ দিচ্ছেন এই সুবিশাল ব্লগার কমিউনিটিতে। ২০২৫ সালে এসে, প্রায় ৮৩% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়মিত ব্লগ পড়েন। এই বিশাল ব্লগ পাঠকরা প্রতিমাসে ২০ বিলিয়ন ব্লগ পোস্ট পড়ে শেষ করেন। অথচ নিয়মিতভাবে বেশিরভাগ নতুন ব্লগার এমনকি অনেক বড় বড় পুরাতন ব্লগাররাও ব্লগিং ছেড়ে দেন।

" ৮০% নতুন ব্লগাররা ব্লগিং শুরুর ১৮ মাসের মধ্যেই আশা হারিয়ে ফেলেন ও ব্লগিং ছেড়ে দেন। "

এর অনেক জটিল ও যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। ব্লগারদের ব্লগিং এ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার ৬টি সাধারণ কারণ খুঁজে পেয়েছি । এই আর্টিকেলে মূলত সেই ৬টি কারণ উল্লেখ পূর্বক কিভাবে ব্লগিং এ ধৈর্য্য ধরে রাখতে হবে তা আলোচনা করা হয়েছে।

অপরিকল্পিতভাবে ব্লগিং শুরু করা।

পরিকল্পনা ছাড়া কোন কিছুই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় না। হয়ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা ছাড়া অনেক কিছুই শুরু করা যায় কিন্তু তা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা দায়। এমন অনেক মহৎ উদ্দেশ্য আছে যেগুলো সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে!

ব্লগিং তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অনেক সহজ কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুরুতেই অনেকে শেষ করে দিয়েছেন। তাই ব্লগিং শুরু করার পূর্বে আপনার উচিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যাওয়া।

আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা

স্বপ্ন সবাই দেখে। স্বপ্ন যারা দেখতে পারেন না তাদের জন্য ব্লগিং শুরু করা ও পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াটা আর যাই হোক বুদ্ধিমান কাজ নয় । তবে হ্যাঁ, আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখলেই আবার হবে না। বেশিরভাগ ( প্রায় ৯০-৯৫ % ) নতুন ব্লগারা এই ভুলটা করে বসেন।

তারা ভেবে বসেন পোস্ট করলেই বুঝি হাজার হাজার ভিজিটর আসবে, পোস্ট পড়বে আর অসংখ্য কমেন্ট আসতে থাকবে। যখন তারা ব্লগ তৈরি করার পর এই রকম কিছু দেখতে পান না তখন সকাল স্বপ্ন দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

অন্য ব্লগারদের সাথে তুলনা করা

নিজেকে অন্যের মতো করে তৈরি করতে থাকলে বা অন্ধ অনুকরণ করতে থাকলে একসময় নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। তেমনি নিজেকে, নিজের সৃষ্টিকর্ম ছেড়ে অন্য ব্লগারদের সাথে নিজেকে তুলনা করে অন্যের মতো করে ব্লগ পোস্ট লিখলে পাঠক তাদের রুচি কিছুটা হলেও হারিয়ে ফেলেন এবং ঐ নির্দিষ্ট ব্লগের কন্টেন্ট পড়া কমিয়ে দেন। এভাবে ব্লগে পাঠকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলে লেখক তার ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেন না।তাই নিজস্ব ইউনিক কন্টেন্ট তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করাই উত্তম।

অন্যকে অনুকরণ করে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবেন না।

নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেওয়া

অনেকের ব্লগিং ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ লেখার মতো ভালো কিছু খুঁজে বের করতে না পারা। আর খুঁজে না পাওয়ার জন্য দায়ী নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেওয়া। আর নতুন কিছু না শিখতে পারলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করতে না পারলে পাঠকদের জন্য নতুন কিছু তুলতে ধরতে পরা যাবে না। যখন , পাঠকদের চাওয়া নতুন কিছু, ব্যতিক্রম কিছু।

শুরুতেই আয় রোজগারের চিন্তা-ভাবনা

ব্লগারদের সবচেয়ে বড় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার কারণ হলো শুরুতেই আয় রোজগারের চিন্তা-ভাবনা মাথায় নিয়ে আসা। বেশিরভাগ নতুন ব্লগাররা ভাবতে থাকেন ব্লগ তৈরির সাথে সাথে অনেক সহজেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম শুরু হবে। ভিজিটর আসলেই $১০০০ ডলার মাসে চলে আসবে!! এই চিন্তা ভাবনা থাকার কারণে যখন তাঁরা কয়েক মাস ব্লগিং করার পরও আশানুরূপ সাড়া বা ফলাফল ( আয় রোজগার ) পায় না তখন আশা ছেড়ে দেন।

কাজের ( ব্লগিং) প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা

যে যাই কাজ করি না কেন, কাজের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ না থাকলে কাজে মনোযোগ আসবে না। আর মনোযোগ , আগ্রহ ও ভালোবাসা না থাকলে কাজকে তখন আর " কাজ মনে হবে না, মনে হবে বোঝা!"

কাজের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে, কাজকে কাজ মনে হবে না, কাজকে বোঝা মনে হবে।

ব্লগিং এমন একটি পেশা যেখানে কাজ, আবেগ , ভালোবাসা সবকিছু একসাথে "কাজ" করে, অনুপ্রেরণা যোগায়! তাই, ব্লগ পোস্ট কার ভালো লাগে আর কার লাগে না সেদিকে মনোযোগ বেশি না দিয়ে, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কোয়ালিটি কনটেন্ট রাইটিং করুন। দেখবেন একদিন পাঠকদের একাংশ কমেন্ট করে বলছে, "আপনার পোস্ট পড়ে তারা অনেক উপকৃত হচ্ছে" , অনেকেই বলবেন," আপনার পোস্ট, অমুক ব্লগের তমুক ব্লগারের মতো প্রফেশনাল লাগছে" আরো কত্তো কিছু!

ব্লগিংয়ে ধৈর্য্য ধরে রাখার উপায়

ব্লগিংয়ে ধৈর্য্য ধরে রাখাটা জরুরি। ধৈর্য্য ধরে রাখার জন্য নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন ।

  • সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে ব্লগিং শুরু করা : যেমন :- সপ্তাহে কয়টি পোস্ট করবেন, কি কি টপিকসের উপর লিখবেন, কখন কোন ধরনের স্কিল ডেভেলপ করবেন, দৈনিক কতটুকু সময় দিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
  • দক্ষতা অর্জন ব্যতিরেকে আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা বাদ দিতে হবে :- আগে কিছু দক্ষতা অর্জন করুন, সময় নিয়ে লাগাতার কাজ করতে থাকুন তারপর বড় স্বপ্ন দেখুন। কাজ কম করে, বেশি স্বপ্ন দেখা বোকামি।
  • নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে ডিপ্রেসড না হওয়া :- নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা পরিহার করুন।
  • প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা:- নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে প্রতিদিন নতুন নতুন বই , ব্লগ ইত্যাদি পড়ুন। যাতে করে নতুন কিছু শিখতে ও পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
  • লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার চিন্তা বাদ দিন :- ব্লগ থেকে ইনকাম করা যায় তবে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করার চিন্তা ভাবনা থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কোয়ালিটি পূর্ণ লেখা পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করুন।
  • ভালোবাসা, আগ্রহ নিয়ে কাজ করা : ব্লগিং করতে নিজের ব্লগের প্রতি যথেষ্ট ভালোবাসা নিয়ে কাজ করবেন।
  • অতি আবেগ পরিহার করুন : ব্লগিং একটি আবেগের নাম, অনেক আবেগ, স্মৃতি বিজড়িত থাকে প্রতিটি ব্লগের সাথে কিন্তু অতিরিক্ত আবেগ থাকলে সেটা পরিহার করা উচিত।
  • অন্যের কথায় কান না দেওয়া :- কে কি বললো সেদিকে খুব খেয়াল না করলে ভালো ফল পাবেন। কারন ভালো লোকদের মাঝে কিছু ভাইরাস থাকে।

উপসংহার

ব্লগিং করতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হচ্ছে ধৈর্য্য। ধৈর্য্য না থাকলে ব্লগিং করে টিকে থাকা অনেক অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের । সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে এবং অন্যকে কিছু শেখানোর উদ্দেশ্য ব্লগিং করতে আমি আপনাদের পরামর্শ দেব।